Dr. Mostafa Al-Tarique (Ronee)

Infertility Specialist, Laparoscopic and Hysteroscopic Surgeon

Recurrent Pregnancy Loss বা বারবার গর্ভপাত: সর্বাধুনিক চিকিৎসায় সমাধান সম্ভব

মা হওয়া প্রতিটি নারীর কাছে এক অপার্থিব অনুভূতির নাম। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্ন যখন বারবার চোখের সামনে ভেঙে যায়, তখন সেই কষ্ট কেবল একজন মা-ই অনুভব করতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস’ (RPL)।

অনেকে একে ভাগ্যের দোষ বা অভিশাপ মনে করে ভেঙে পড়েন। কিন্তু মনে রাখবেন, এটি কোনো অভিশাপ নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট মেডিকেল সমস্যা। আধুনিক চিকিৎসায় এর চমৎকার সমাধান রয়েছে। আজকের ব্লগে আমরা জানব বারবার গর্ভপাত কেন হয় এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কী।

১. রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস (RPL) আসলে কী?
যদি কোনো মায়ের পরপর দুবার বা তার বেশিবার গর্ভপাত (সাধারণত ২৪ সপ্তাহের আগে) হয়, তবে তাকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলা হয়। এটি শুধু একটি শারীরিক সমস্যা নয়, বরং একটি পরিবারের জন্য বড় মানসিক ধাক্কা।

২. কেন এমন হয়? (প্রধান কারণসমূহ)
গর্ভপাত হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। প্রধান কিছু কারণ তুলে ধরছি :

  • ভ্রূণের জেনেটিক সমস্যা: অনেক সময় ভ্রূণের ক্রোমোজোমে ত্রুটি থাকলে প্রকৃতিগতভাবেই গর্ভপাত হয়ে যায়।
  • জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি: জরায়ুর ভেতরে পর্দা (Septum) থাকা, জরায়ু দুই ভাগে বিভক্ত থাকা কিংবা জরায়ুতে টিউমার বা পলিপ থাকলে ভ্রূণ বড় হতে পারে না।
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা কিংবা প্রেগনেন্সি টিকিয়ে রাখার হরমোন ‘প্রজেস্টেরন’-এর অভাব।
  • রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা: মায়ের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা থাকলে ভ্রূণ সঠিক রক্ত সঞ্চালন পায় না, ফলে গর্ভপাত ঘটে।

৩. কারণ জানতে কী কী পরীক্ষা প্রয়োজন?
অন্ধকারে ঢিল না ছুড়ে সঠিক কারণ খুঁজে বের করাই হলো সফল চিকিৎসার প্রথম ধাপ। ডাক্তাররা সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলো দিয়ে থাকেন:

  • TVS আল্ট্রাসাউন্ড: জরায়ুর গঠন দেখার জন্য।
  • হিস্ট্রোস্কপি: ক্যামেরার মাধ্যমে জরায়ুর ভেতরটা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা।
  • ব্লাড প্রোফাইল: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস এবং বিশেষ কিছু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা।
  • জেনেটিক টেস্ট: স্বামী-স্ত্রীর ক্রোমোজোম পরীক্ষা বা ক্যারিওটাইপিং।

৪. আধুনিক চিকিৎসা:

অন্ধকারের শেষে আশার আলো হলো চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত। বারবার গর্ভপাত হওয়া মায়েদের জন্য এখন রয়েছে কার্যকর সব সমাধান:

  • সার্জারি: জরায়ুতে পর্দা বা টিউমার থাকলে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে তা সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
  • হরমোন থেরাপি: হরমোনের ঘাটতি থাকলে ওষুধের মাধ্যমে তা পূরণ করা হয়।
  • ইমিউনোমডুলেশন: রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থাকলে অ্যাসপিরিন বা বিশেষ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।
  • IVF ও জেনেটিক স্ক্রিনিং (PGT): টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতিতে সুস্থ ভ্রূণ বাছাই করে জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, যা গর্ভপাতের ঝুঁকি বহুগুণ কমিয়ে দেয়।

শেষ কথা
যারা এই কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। তবে মনে রাখবেন, বারবার গর্ভপাতের পরও আপনি মা হতে পারবেন। শুধু প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক কারণ খুঁজে বের করা এবং একজন ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। ধৈর্য হারাবেন না, সঠিক চিকিৎসায় আপনার কোল জুড়েও আসবে সুস্থ-সুন্দর এক পৃথিবী।

ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট, ল্যাপারোস্কোপিক & হিস্টেরোস্কোপিক সার্জন
ডাঃ মোস্তফা আল-তারিক (রনি)
এমবিবিএস, এমএস (ইনফার্টিলিটি)
কনসালটেন্ট, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজি & ইনফার্টিলিটি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)

Recurrent Pregnancy Loss or Repeated Miscarriage: Solution is possible with the latest treatment