Dr. Mostafa Al-Tarique (Ronee)

Infertility Specialist, Laparoscopic and Hysteroscopic Surgeon

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে IVF বা টেস্ট-টিউব বেবি

সন্তান একটি পরিবারের পূর্ণতা আনে। কিন্তু অনেক সময় শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার হলো IVF (In-Vitro Fertilization) বা যা সাধারণ মানুষের কাছে টেস্ট টিউব বেবি নামে পরিচিত।

বাংলাদেশে বর্তমানে এই চিকিৎসার হার ও সফলতা অনেক বেড়েছে। আজকের ব্লগে আমরা জানব আইভিএফ কী, কেন এটি প্রয়োজন এবং এর প্রক্রিয়াটি আসলে কেমন।

১. আইভিএফ (IVF) বা টেস্ট টিউব বেবি কী?
যখন স্বামী বা স্ত্রীর কোনো মেডিকেল সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে সন্তান আসছে না, তখন কৃত্রিম উপায়ে ল্যাবের মধ্যে স্ত্রীর ডিম্বাণু এবং স্বামীর শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভ্রূণ স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। এই আধুনিক পদ্ধতিটিই হলো আইভিএফ।

একটি জরুরি তথ্য: ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, যদি নিজেদের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে ইসলামে এর অনুমতি রয়েছে।

২. কাদের জন্য আইভিএফ প্রয়োজন?
একজন ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট সাধারণত নিচের সমস্যাগুলো থাকলে আইভিএফ করার পরামর্শ দেন:

  • টিউব ব্লক: স্ত্রীর দুটি ফেলোপিয়ান টিউবই যদি পুরোপুরি ব্লক থাকে।
  • শুক্রাণুর সমস্যা: স্বামীর বীর্যে শুক্রাণু না থাকা (Azoospermia) অথবা শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি বা গঠনগত ত্রুটি থাকলে।
  • অন্যান্য কারণ: এন্ডোমেট্রিওসিস বা দীর্ঘদিনের বন্ধ্যাত্ব যা অন্য কোনো চিকিৎসায় কাজে দিচ্ছে না।

৩. আইভিএফ-এর ধাপগুলো কী কী?
পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়:

  • ডিম্বাণু তৈরি: স্ত্রীকে হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে ডিম্বাণু তৈরি ও ম্যাচিউর করা হয়।
  • ডিম্বাণু সংগ্রহ (Ovum Pick-up): ডিম্বাণু ম্যাচিউর হলে হালকা ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেন্সে বিশেষ পদ্ধতিতে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়।
  • নিষেক ও ভ্রূণ তৈরি: সংগৃহীত ডিম্বাণু ও স্বামীর শুক্রাণু ল্যাবের ভেতর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ (Embryo) তৈরি করা হয়।
  • ভ্রূণ স্থাপন (Embryo Transfer): ২-৩ দিন পর সবচেয়ে ভালো মানের ভ্রূণটি স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

৪. সফলতার হার ও সচেতনতা
আইভিএফ-এর সফলতার হার সাধারণত ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:

  • বয়স: ৩৫ বছরের বেশি বয়স হলে সফলতার হার কমতে থাকে।
  • জরায়ুর অবস্থা: জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম বা ভ্রূণ ধারণ করার ক্ষমতা কতটা ভালো, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • অভ্যাস ও জীবনযাত্রা: সুস্থ জীবনধারা সফলতাকে ত্বরান্বিত করে।

৫. ঝুঁকি বা জটিলতা
অনেকে ভাবেন এটি খুব ব্যথাদায়ক বা ঝুঁকিপূর্ণ। আসলে এটি একটি অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। খুব কম ক্ষেত্রে ‘ওএইচএসএস’ (OHSS) বা পেটে পানি আসার মতো সমস্যা হতে পারে, যা সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব।

শেষ কথা
নিঃসন্তান হওয়া এখন আর কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নয়। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আপনার জীবনেও নতুন অতিথির আগমন ঘটাতে পারে। আইভিএফ নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে আজই একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করুন।

ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট, ল্যাপারোস্কোপিক & হিস্টেরোস্কোপিক সার্জন
ডাঃ মোস্তফা আল-তারিক (রনি)
এমবিবিএস, এমএস (ইনফার্টিলিটি)
কনসালটেন্ট, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজি & ইনফার্টিলিটি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)

IVF or Test-Tube Baby in the Context of Bangladesh