Dr. Mostafa Al-Tarique (Ronee)

Infertility Specialist, Laparoscopic and Hysteroscopic Surgeon

ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন কিভাবে সন্তান নিতে সাহায্য করে?

সন্তানহীনতার বেদনা কেবল সেই দম্পতিরাই বোঝেন যারা বছরের পর বছর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। অনেক সময় নানা চিকিৎসার পরও যখন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসে না, তখন হতাশা গ্রাস করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন এতটা উন্নত হয়েছে যে, জটিল সব শারীরিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে খুব সহজে।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব ল্যাপারোস্কপি (Laparoscopic Surgery) নিয়ে—যা ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। কেন এই পদ্ধতিটি এত জনপ্রিয় এবং এটি কীভাবে আপনাকে মা হতে সাহায্য করতে পারে, চলুন জেনে নিই।

ল্যাপারোস্কপি কী?
ল্যাপারোস্কপি হলো একটি ‘মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি’ বা আধুনিক শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি। প্রচলিত অপারেশনের মতো এতে বড় করে পেট কাটার প্রয়োজন হয় না। মাত্র ২-৩টি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে একটি বিশেষ ক্যামেরা এবং সূক্ষ্ম যন্ত্র পেটের ভেতর ঢুকিয়ে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করা হয়।

বন্ধ্যাত্ব দূর করতে ল্যাপারোস্কপি কীভাবে কাজ করে?
অনেক সময় সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের সূক্ষ্ম সমস্যাগুলো ধরা পড়ে না। ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে ডাক্তার সরাসরি নিচের সমস্যাগুলো নির্ণয় এবং সমাধান করতে পারেন:

১. ব্লক টিউব খুলে দেওয়া: ফেলোপিয়ান টিউব যদি বন্ধ থাকে, বিশেষ করে বাইরের দিকে (Distal block), তবে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে সেই পথটি মুক্ত করা যায়। একে বলা হয় ফিমব্রোপ্লাস্টি।
২. ডিম্বাশয়ের সিস্ট অপসারণ: যাদের চকলেট সিস্ট (Endometrioma) বা অন্যান্য সিস্ট আছে, তাদের ডিম্বাশয় ক্ষতিগ্রস্ত না করে খুব সাবধানে সিস্টগুলো অপসারণ করা সম্ভব। এতে ডিম্বাণু তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা ওভুলেশন উন্নত হয়।
৩. এন্ডোমেট্রিওসিস ও পেলভিক অ্যাডিশন: জরায়ুর আশেপাশে অঙ্গগুলো যদি একে অপরের সাথে লেগে থাকে, তবে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে তা ঠিক করা যায়, যা গর্ভধারণের পথ সহজ করে দেয়।

কেন আপনি ল্যাপারোস্কপি বেছে নেবেন? 
অনেকেই অপারেশন বা সার্জারি শুনে ভয় পান। কিন্তু ল্যাপারোস্কপির সুবিধাগুলো জানলে আপনি আশ্বস্ত হবেন:

  • বড় কোনো কাটাছেঁড়া নেই: এতে সেলাই খুব ছোট হয় এবং দাগ থাকে না বললেই চলে।
  • ব্যথা ও রক্তপাত কম: বড় অপারেশনের তুলনায় এতে রক্তক্ষরণ ও ব্যথা অনেক কম হয়।
  • দ্রুত সুস্থতা: রোগী সাধারণত মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন।
  • ন্যাচারাল গর্ভধারণের সম্ভাবনা: অনেক ক্ষেত্রে এই সার্জারির পর দম্পতিরা কোনো আইভিএফ (IVF) বা টেস্ট টিউব পদ্ধতি ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কনসিভ করেন।

শেষ কথা
বন্ধ্যাত্ব মানেই জীবনের শেষ নয়। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার অপূর্ণ স্বপ্নকে পূর্ণ করতে পারে। ল্যাপারোস্কপি আপনার জরায়ু এবং টিউবের গঠন সুরক্ষিত রেখে মা হওয়ার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আপনি যদি দীর্ঘদিন সন্তান ধারণের চেষ্টা করে সফল না হন, তবে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সাহসী সিদ্ধান্তই পারে আপনার কোলে নতুন অতিথির আগমন নিশ্চিত করতে।

ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট, ল্যাপারোস্কোপিক & হিস্টেরোস্কোপিক সার্জন
ডাঃ মোস্তফা আল-তারিক (রনি)
এমবিবিএস, এমএস (ইনফার্টিলিটি)
কনসালটেন্ট, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজি & ইনফার্টিলিটি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)

How Laparoscopic Surgery Helps in Conceiving a Child